Islamic Post

মুসা আঃ এর মৃত্যুর বিস্ময়কর ঘটনা || আজরাইল আঃ কে কেন চড় মেরেছিলেন | Islamic Educational Story

মুসা আঃ এর মৃত্যুর বিস্ময়কর ঘটনা || আজরাইল আঃ কে কেন চড় মেরেছিলেন | Islamic Educational Story

আসসালামুআলাইকুম বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই ভাল আছেন ,

হযরত মুসা ইসলাম কেন এবং কি কারণে আজরাইল আলাই সাল্লাম কে চড় মেরে তার চোখ কানা করে দিয়েছিলেন সেই সম্পর্কে একটি বিস্ময়কর ঘটনা শুনে আপনার মন ছুয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ  হযরত মুসা ইসলাম ছিলেন বনি ইসরাইলের একজন কিতাবধারী নবী তার জীবনের অসংখ্য ঘটনা রয়েছে জীবনের বহু সংগ্রামের পর আল্লাহতালার নির্দেশে হযরত মুসা ইসলাম ফেরাউন এবং তার সৈন্যবাহিনীকে শেষ করে ফেললেন এবং লোহিত সাগরের ওপারে অসহায় বনি ইসরাইল জাতিকে নিয়ে বসবাস করতে লাগলেন এর মধ্যে ঘটে যায় বিভিন্ন ঘটনা এবং অতিবাহিত হয় সময়ে-অসময়ে ইতিমধ্যে তিনি আল্লাহতালার দেওয়া সমস্ত আদেশ দায়িত্ব সহকারে পালন করেছেন তা এবার বিশ্রামের.।

তাছাড়া মুসা আলাই সাল্লাম এর বয়স হয়েছে অনেক তখন তিনি নিজ দায়িত্বে হযরত সাল্লে সাল্লাম-এর উপর অর্পণ করে নিজেকে কিছুটা বিশ্রাম গ্রহণ করলেন শরীরে শক্তি এবার প্রায় শেষ হয়ে আসছে বয়স বাড়লে এমনই মনে হয় এটা স্বাভাবিক মনে মনে ভাবে অতীতের বহু কথা এমন সময় হঠাৎ করেই মালাকুল মউত আজরাইল ফেরেশতা এসে সালাম দিলেন হযরত মুসা ইসলাম তখন আজরাইল ফেরেশতা কে জিজ্ঞেস করলেন আপনি কি আমার জান কবজ করার জন্য এসেছেন আলাই সাল্লাম বললেন যে হে আল্লাহ তালার প্রবর্তিত স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে আপনার জান কবজ করার সময় এসে গেছে হযরত মুসা ইসলাম জিজ্ঞেস করলেন আপনি কি আমার জানটা মুখ থেকে বের করে নিবেন অথচ আমি এই মুখ দিয়ে আল্লাহ তা’আলার সাথে সরাসরি কথা বলেছি তখন আজরাইল আলী সাল্লাম বললেন তাহলে চোখ দিয়ে বের করে নেব হযরত মুসা আলাই সাল্লাম বললেন এই ধারা আমি আল্লাহর নূর দর্শন করেছি তখন আজরাইল আলাই সাল্লাম বললেন তবে নাক দিয়ে নেব হযরত মুসা.।

বললেন আল্লাহ দিদার মুহূর্তে যে পরিবেশের বেহেশতে সুঘ্রাণ আমি নিয়ে নিয়েছি হযরত আদম আলাই সাল্লাম বললেন আমিও তো কথার জবাব দিতে আসিনি সময় শেষ অতএব আমার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে আমি জান কবজ করব হযরত মুসা ইসলাম আজরাইলের কথায় প্রচন্ড রেগে গেলেন এবং বেয়াদব বলে তার গালে সজোরে এক থাপ্পর বসিয়ে দিলেন আজরাইলের চক্ষুদুটি বের হয়ে গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে কানা হয়ে গেল আজরাইল আল ইসলামী এই অবস্থায় সোজাসোজি আল্লাহর দরবারে চলে গেলেন এবং আল্লাহর নিকট তিনি সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন আল্লাহ তখন আজরাইলের চক্ষুর ঠিক করে দিয়ে বললেন আমাদের নবীদের মধ্যে মুসান্না এত গরমে যাবে আর দ্বিতীয় কেউ নেই অতএব তার জান কবজ এর বিষয়ে আমি নিজেই দেখব তোমাকে আর তার কাছে যেতে হবে না কয়েকদিন পর আল্লাহ তাআলা ওহী মারফত হযরত মুসা আলাই সাল্লাম কে বললেন হে মূসা তুমি যদি একটি মেয়ের পশমের সংখ্যা পরিমাণ বছর হায়াত দারাজ করুক তবে আমি তোমার.।

* করে দেবো তুমি যত বছর পৃথিবীতে বসবাস করতে চাও তুমি কত বছর পৃথিবীতে বসবাস করতে পারবে হযরত মুসা ইসলাম একথা শুনে ভাবলেন তারপরে তো অবশ্যই মৃত্যুবরণ করতে হবে আর এ দীর্ঘ বছরগুলো পৃথিবীতে কষ্ট করে কাটাতে হবে যেমনটি ইতিপূর্বে কাটাতে হয়েছে অতএব সবচাইতে নিরাপদ স্থান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ এটি অনেক উত্তম তাই তিনি বললেন আল্লাহর নির্ধারিত হায়াতের পারে আমি তোমার সান্নিধ্য লাভ করতে চাই আমি যে তোমাকে বড্ড বেশি ভালোবাসি তোমার নৈকট্য আমার কামনা করি তবে হে প্রভু আমাকে পৃথিবী থেকে বিদায় গ্রহণের পূর্বে আর একবার তুর পাহাড়ের তোমার দর্শন দাও আমারে শেষ আবেদন তুমি কবুল কর আল্লাহতালা হযরত মুসা আঃ সালামের আবেদন মঞ্জুর করে তাকে দূর পাহাড়ে যাত্রা নির্দেশ দিলেন ইসলাম কালবিলম্ব না করে সোজা দূর পাহাড়ে গিয়ে পৌঁছালেন সেখানে আল্লাহতালা নূরানী দর্শন করলেন এবং তার সাথে.।

কথোপকথন করলেন সর্বশেষে হতে হযরত মুসা আঃ সালাম আল্লাহর দরবারে আরজ করে বললেন হে মহান প্রভু আপনি আমার অবাধ্য কমে প্রতি আর কোন গজব নাজিল না করে তাদেরকে রহমতে ছায়াতলে আশ্রয় দিন এবং তাদেরকে রোজগারের ব্যবস্থা করুন তারা যেন অনাহারে মৃত্যু বরণ না করে তখন আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা আঃ সালামের আবেদনের প্রেক্ষিতে বললেন আল্লাহ ঈমানদার নাফরমান কাফের ও জীব জানোয়ারের প্রতিপালক রিযিকদাতা আমি কাউকে উপবাস রাখেনা যে যেখানে আছে আমি সেখানে তার রিজিক বসে দেই এই কথার পরে আল্লাহতালা তখন হযরত মুসা আলাই সাল্লাম কে পাহাড়ের ওপর তার লাঠি দ্বারা আঘাত করতে বললেন ফলে যখন হযরত মুসা ইসলাম পাহাড়ের উপর লাঠি দিয়ে আঘাত করলেন তখন সেখান থেকে একটি নদী হয়ে গেল আল্লাহতালা পুনরায় নদীর উপর লাঠি দ্বারা পুনরায় আঘাত করতে বললেন তিনি আঘাত করার পর দেখলেন একখানা পাথর নদীর পানির ওপর দিয়ে ভেসে আসছে আল্লাহতালার পাথরের ওপর লাঠি দ্বারা.।

করতে বললেন হলে তিনি যখন আঘাত করলেন তখন দেখা গেল পাথরের মধ্য থেকে একটি ফড়িং বের হয়েছে এবং তার মুখে এক টুকরা কাঁচা ঘাস এই দৃশ্য দেখে হযরত মুসা ইসলাম সেখানে সিজদায় পতিত হলেন কিছুক্ষণ পরে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে নবীকে সালাম প্রদান করে বিদায় দেয়া হলো হযরত মুসা ইসলাম পাহাড় থেকে নেমে অগ্রসর হয়ে দেখলেন 7 জন লোক একটি কবর খনন করছে তখন নবী তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন ভাইয়েরা আমার তোমরা এই নির্জন এলাকায় কার কবর করছো তারা বললেন আপনার নামে একজন মহৎ ব্যক্তির কবর খনন করছি আপনিও আমাদের সাথে এইসবের কাজে শরিক হতে পারেন তখন হযরত মুসা ইসলাম তাদের সাথে কিছু কবর খননের কাজ করলেন এরপর তাদের মধ্যে একজন বললেন হে নবী যার জন্য আমরা এ কবর খনন করছে সে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের আপনার নেই তাই আপনি একবার কবরকে মাপার জন্য নিজে ওখানে শুয়ে একটু পরীক্ষা করে দেখুন হযরত মুসা ইসলাম তাদের.।

কবরী নেবে শুয়ে পড়লেন এবং বললেনঃ হে খোদা কত নিঝুম এ জায়গাটি তুমি আমার জন্য এ জায়গাটি কবুল করো হযরত মুসা আঃ সালামের আবেদনের সাথে সাথে একজন ফেরেশতা এসে তাকে একটি আপেল খেতে দিল বিসমিল্লাহ বলে যখন তিনি আপেল খেতে আরম্ভ করলেন তখন তার জান কবজ হয়ে গেল ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন তখন উপস্থিত ফেরেশতারা হযরত মুসা আলাই সাল্লাম কে কবর থেকে উঠিয়ে অজু-গোসল করালেন জানাজা পড়ালেন এবং তাকে পুনরায় সেই কবরে দাফন করলেন হলে কোন মানুষ জানতে পারল না যে হযরত মুসা ইসলাম এর দাফন কোথায় হয়েছে বনী ইসরাঈল হন্য হয়ে তার কবরের অস্তিত্ব অনুসন্ধান করে বিফল হয়েছে মানুষ জাতির জন্য তার কবরের অস্তিত্ব আজও অজানা রয়ে গেছে তিনি পৃথিবীতে আনুমানিক দেড়শো বছর বেঁচে থাকে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেন তো বন্ধুরা এই ছিল ।

আপনারা ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button