Islamic Post

হজরত সুলায়মান আঃ ও পিপীলিকার বিস্ময়কর ঘটনা || কি ঘটেছিলো সেদিন পিপীলিকার সাথে || Educational Story

হজরত সুলায়মান আঃ ও পিপীলিকার বিস্ময়কর ঘটনা || কি ঘটেছিলো সেদিন পিপীলিকার সাথে || Educational Story

আসসালামুআলাইকুম বন্ধুরা আশা করি আপনারা সকলেই ভাল আছেন । হযরত সুলাইমান আলাই সাল্লাম পিপীলিকা দলের রাজার কাছ থেকে যে সমস্ত শিক্ষা নিয়েছিলেন সেই সম্পর্কে একটি বিস্ময়কর সত্য ঘটনা।  শুনে আপনার মন ছুয়ে যাবে ইনশাল্লাহ । আল্লাহ নবী হযরত সুলাইমান আলাই সাল্লাম আক্তার লস্কর ও সৈন্যসামন্ত নিয়ে সিংহাসনে আরোহন করে এক নতুন জায়গায় গিয়ে অবতরণ করলেন সেখানে অবতরণ করা মাত্রই তিনি শুনতে পেলেন পিপিলিকার গাজা চিৎকার করে বলছে হে পিপীলিকার দল তোমরা অতিসত্বর নিজ নিজ গড়তে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করো কারণ তার সৈন্য সামন্ত নিয়ে এখানে এসে পৌঁছেছেন তার সেনাবাহিনী অলক্ষ্যে হয়তো তোমাদেরকে পদদলিত করে ফেলবে হযরত সুলাইমান আলাই সাল্লাম উনার কথা শুনে হাসলেন এবং বললেনঃ ক্ষুদ্র প্রাণী.

রাজা এতটা সতর্ক ও দয়াবান তা আমি কোনোদিন ভাবি নি তিনি তখন পিপিলিকার রাজাকে হাতে তুলে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি তোমার প্রতি এতটা মেহেরবান কেন এবং আমার সম্পর্কে উক্তি করেছে তাতে মনে হয় আমি প্রাণীকুলের উপর জুলুম করে থাকি আমার ওপর এভাবে দোষারোপ কেন করলে পিপিলিকার রাজা তখন উত্তরে বলল হে আল্লাহর খলিফা আপনি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নবী তাই আপনার দায়িত্ব অনেক বড় আমরা অত্যন্ত ক্ষুদ্র প্রাণী তাই আমাদের দায়িত্বও ক্ষুদ্র আল্লাহতালা আমার ওপর প্রজাদের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন সেই হিসেবে তাদের সুখে আমিও সুখী এবং তাদের দেখে আমি অস্থির হয়ে পড়ি এছাড়া তাদের ভালো-মন্দ তদারকি করার দায়িত্ব আমার উপর অর্পণ করেছেন এজন্য আপনার সৈন্যদের আগমন এবং তাদের অস্ত্র চালানোর সময় তাদের বেখেয়ালে আমার প্রজাবৃন্দ পদদলিত হতে পারে এই আশঙ্কায় আমি তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছি আপনাকে.

আমার মাঝে একদমই নাই শুধু আপনার সুন্নতের বেপরোয়া চালানোর বিষয়ে আমি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিলাম আমি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলাম যে ক্ষুদ্র প্রাণীর বড় প্রাণীর ডাক কোন পরোয়া করে না তাই তাদের অস্ত্র পদতলে পিপিলিকার আবিষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখে আমি তাদেরকে হুশিয়ার করে দিয়েছি আপনাকে দোষারোপ করার কোন উদ্দেশ্য আমার নাই হযরত সুলাইমান আলাই সাল্লাম বললেন তোমার কথা শুনে আমি খুশি হয়েছি এখন বলোতো তোমাদের পিপীলিকাদের সৈন্য সংখ্যা কত নির্বিকার রাজা উত্তরে বলল পিপীলিকা দিয়ে প্রধান সেনাপতির সংখ্যা 40 হাজার সেনাপতির অধীনের 40000 সুবেদার প্রত্যেক সংবিধানের অধীনে 40000 হাকিম এবং প্রত্যেক হাকিমের অধীনের 40000 ফোজদার হযরত সোলেমান আল ইসলাম এই কথা শুনে বললেন আচ্ছা বুঝেছি তোমাদের সৈন্যসংখ্যা বিরাট আচ্ছা এখন বলো তোমার রাজ্য ভালো নাকি আমার রাজ্য ভালো পিপিলিকার রাজা তখন বলল আমার রাজ্য আপনার রাজ্যের চেয়ে উত্তম কেননা জিন দ্বারা.

সিংহাসন তৈরি করে সেটা বাতাসের সাহায্যে পরিচালিত করছেন এতে বোঝা যায় আপনি পরনির্ভরশীল এবং আমার কোন সিংহাসন নাই তাই কারো উপর ক্ষণিকের জন্য আমাকে নির্ভর করতে হয় না হযরত সুলাইমান আল ইসলাম পিপীলিকার কথা শুনে বললেন তোমার মাথায় এত বুদ্ধি তোমার কথা এত যুক্তি এ সমস্ত শক্তি দিয়ে তুমি কোথা থেকে পেলে তখন পিপিলিকার রাজা বলল হে আল্লাহর নবী মহান আল্লাহতালা আপনাকে বিশাল রাজ্য এবং অশেষ বিদ্যা ও জ্ঞান দান করেছেন সেই মহান আল্লাহতালা আমার প্রাপ্য জ্ঞান এবং জ্ঞান বিদ্যা আমাকে দান করেছেন হযরত সুলাইমান আলাই সাল্লাম বললেন তুমি অনেক জ্ঞানের অধিকারী অতএব তুমি আমার রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে ভুলত্রুটি সম্বন্ধে কিছু আলোচনা করো পিপীলিকার রাজা তখন বলল হে আল্লাহর খলিফা আপনার রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে ভুল ত্রুটি আলোচনা করার ক্ষমতা আমার নাই তবে আপনি যখন আমাকে অত্যন্ত আদরের চোখে দেখেন সেই হিসাবে সমালোচনার উদ্দেশ্যে নয় বরং আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে.

তুমি কিছু বলতে পারি আপনি আল্লাহতায়ালার দরবারে রাজ্য লাভের জন্য দোয়া করেছিলেন এ প্রভু আমাকে এমন এক সুন্দর রাজ্য দান করার উপযোগী একমাত্র আমি থাকব আমার পরে যেন কেউ আর এই ধরনের রাজ্যের অধিপতি হতে না পারে তুমি আমার খলিফা এ ধরনের 1-16 আপনার মত একজন পয়গম্বর এর পক্ষে কতদূর সমীচীন হয়েছে তা আমি জানিনা কথাটা যে ঈর্ষা মূলক তাতে কোন সন্দেহ নাই আপনাকে আল্লাহ বিশাল রাজ্যের অধিপতি করেছেন জীন-পরীর আগুন বাতাসকে আপনার বাধ্য করে দিয়েছেন এটা অত্যন্ত আনন্দের কথা কিন্তু আপনার পরে আল্লাহ যদি আরো কয়েকজনকে এইরূপ বিশাল রাজ্যের অধিপতি করেন তাতে আপত্তি কেন আপনারা কি প্রমাণিত হল তা আপনি একবার ভেবে দেখবেন একজন রোগীর পক্ষে খুবই বেমানান হযরত সুলাইমান আলাই সাল্লাম পিপিলিকার রাজার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেলেন তার বাকশক্তি রোদ হয়ে গেল তিনি এই সমস্ত কথার কোন জবাব দিতে সক্ষম.

না শুধু এতোটুকু বললেন-ভাই পিপিলিকার রাজা তোমার বৃষ্টিতে আমার আর কি ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে তা একটু আলোচনা করো রাজা বলল আমার কথায় আপনি একটু ভেবেছেন বটে তবে আপনাকে উচিত কথা বলার ওয়াদা দিয়েছি তাই আপনাকে নির্ধিদায় কথাগুলো বলতে হবে আপনাকে আল্লাহতালা যে আংটি দান করেছেন তার বরকতে আপনি পূর্ব থেকে পশ্চিমে সমগ্র পৃথিবীর রাজত্ব করে যাচ্ছেন যে পরিমাণ পশুপক্ষীর আগুন ও বাতাসের উপর শাসকের সম্মান লাভ করেছেন সর্বোপরি সাম্রাজ্যবাদী সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানের অধিকারী হয়েছেন এগুলো সম্পূর্ণটাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিশেষ দান অতএব সে সময়ের কথা স্মরণ করে আল্লাহর দরবারে যে পরিমাণ শোকরগোজার করা উচিত তার সম্পূর্ণ হচ্ছে না এরপরে বাতাসকে আল্লাহতালা আপনার কঠিন করে দেওয়ার তাৎপর্য হলো বাতাস দেখা যায় না ধরা যায় না শুধু তার অস্তিত্ব অনুভব করা যায় এভাবে আকৃতি বিহীন শক্তিকে আপনার অধীন করে.

মাধ্যমে আপনাকে এই শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে যে সমস্ত শক্তির দাম্ভিকতা এবং জৌলুসের বড়ই ভিত্তিহীন সবকিছুর মূল অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে সবকিছু আকৃতি বিহীন তার সমতুল্য ইন্তেকালের পর অপার্থিব সবকিছুই বাতাসের মতো মনে হবে কিছু দেখা যাবে না বড় করা যাবে না শুধু অনুভব করা যাবে এ সমস্ত কথা শুনে হযরত সোলায়মান আল ইসলাম পিপিলিকার রাজাকে মাটিতে রেখে নিজের পথে চলতে আরম্ভ করলেন তখন পিপীলিকা রাজা বলল হে আল্লাহর খলিফা আপনি গরিবের দাঁড়িয়ে সে খালি মুখে চলে যাবেন তা হয় না আপনি দয়া করে কিছু মুখে দিয়ে যান হযরত সুলাইমান আলাই সাল্লাম এই কথা শুনে দাঁড়ালেন তখন পিপিলিকার রাজাকারদেরকে নাস্তা দেওয়ার জন্য হুকুম করল অমনি তারা একখানা ক্ষুদ্র তুচ্ছ খাবার নিয়ে হাজির হলো হযরত সুলাইমান আলাই সাল্লাম তা দেখে হাসলেন পিপিলিকার হয় তখন বলল হুজুর আপনি হাসছেন কেন ক্ষুদ্র খাদ্য অনেক সময় অনেক মানুষকে পরিতৃপ্তির দান করতে পারে আর বিশাল খাদ্য অনেক সময় শুধু একটা.

খাদ্য হিসেবে যথেষ্ট হয় না এগুলো সব আল্লাহতালার নিয়ন্ত্রণাধীন বিষয় অতএব আপনি বিসমিল্লা বলে দিনঃ আল্লাহ বরকত দান করবেন হযরত সুলাইমান আল ইসলাম সেতু ক্ষুদ্র খাবার থেকে সামান্য একটু মুখে নিলেন অতঃপর তিনি অনুভব করলেন সে বিচ্ছিন্ন অংশটুকু অনেক বড় হয়ে তার হাতে আসলো মুখে দিলেন আর বললেন সেটা আরো বড় আকৃতি ধারণ করল তখন তিনি গিলে ফেললেন তখন তার পেট পরিপূর্ণ হয়ে গেল তখন তিনি তাঁর সঙ্গীদের এবং লস্করদের সেখান থেকে কিছু অংশ খেতে হুকুম দিলেন এক চিমটি করে খাদ্য গ্রহণ করল দ্বিতীয় বার কারো পক্ষে নেওয়ার ছিল না কয়েক হাজার মানুষ এভাবেই খাবারের তার সমাধান করল তাতে দেখা গেল সেই তুচ্ছ ক্ষুদ্র খাবারের এক-চতুর্থাংশ মাত্র শেষ হয়েছে হযরত সুলাইমান আলাই সালাম পিপিলিকার রাজার সাথে আলাপ চারিতা এবং আতিথেয়তা গ্রহণ ইত্যাদি সবকিছু আল্লাহতালার এক অপূর্ব পরীক্ষা বলে মনে করলেন তো বন্ধুরা এই ছিল আমাদের.

আজকের এই ঘটনা কেমন লাগলো কমেন্ট করে আমাদের অবশ্যই জানাবেন আজ তাহলে এই পর্যন্তই আপনারা ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ.।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button